Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

 

১.আবর্তক কৃষি ঋণ কার্যক্রম (আরএফএল-কৃষি):

কৃষি  উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি  ও টেকসই  উন্নয়নে ঋণ  একটি  চালিকা শক্তি । দারিদ্র্য বিমোচনে এই ঋণ কার্যক্রমের ব্যাপ্তি  ও প্রয়োজনীয়তা  ব্যাপকভাবে  বৃদ্ধি পেয়েছে । বিআরডিবি’র  ঋণ কার্যক্রমের উন্নয়ন সহযোগী ও  অর্থ  সরবরাহকারী  ছিল দেশের  রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ।  বিভিন্ন কারণে  এ  খাতে ব্যাংক অর্থায়ন সংকুচিত হয়ে আসে ।  দারিদ্র্য  বিমোচন কৌশলপত্র  বাস্তবায়নে ২০০৩-২০০৪  অর্থ  বছর  থেকে  রাজস্ব  বাজেটের আওতায় "পল্লী অঞ্চলে বিতরণের জন্য ঘূর্ণায়মান পল্লী উন্নয়ন ঋণ তহবিল’’ শিরোনামে বিআরডিবি’র  নিজস্ব ঋণ কার্যক্রম শুরু  হয়, যা  বিআরডিবি  পরিচালিত ঋণ কার্যক্রমে  প্রবাহ  সৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে । ফলে ঋণ তহবিল প্রাপ্তিতে  ব্যাংক  নির্ভরতা  কমে  এসেছে  এবং ঋণ তহবিলের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে ।  মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাংক না থাকাতে সুদের হারও কমেছে ।

২০০৩-২০০৪ অর্থ  বছর থেকে  ক্ষুদ্র ঋণ  কার্যক্রমের  আওতায়  বিআরডিবি  সদর  দপ্তরে রাজস্ব বাজেট থেকে আবর্তক ঋণ তহবিল (কৃষি) বাবদ ১৩১২৫.০০ লক্ষ টাকা পাওয়া গেছে যা ৪% প্রবৃদ্ধি সহ বর্তমানে ১৬০৪৪.৬১ লক্ষ টাকায় উত্তীর্ণ হয়েছে ।  ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা উত্তর কৃষি পুনর্বাসনে মাঠ পর্যায়ে বাড়তি ঋণ চাহিদা মেটাতে এ খাতে আরো অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে । অত্র জেলায় চলতি অর্থ বছরের এবং ক্রমঃপুঞ্জিত ঋণ বিতরণ এবং আদায় কার্যক্রমের অগ্রগতি নিম্নে দেয়া হলো ।

                                                                                                         (লক্ষ টাকায়)

কর্মসুচীর নাম

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ঋণ বিতরণ

ক্রমঃপুঞ্জিত

বিতরণ

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ঋণ আদায়

ক্রমঃপুঞ্জিত

আদায়যোগ্য ঋণ

ক্রমঃপুঞ্জিত

আদায়

আবর্তক ঋণ তহবিল(কৃষি)

 

১.০৪

 

১৭৭৯.৪০

১৫.২৪

১৬২৪.৫০         

১৫৬৪.৯১

 

২.সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী(সদাবিক) :

বাংলাদেশের  পল্লীতে  বসবাসরত  দরিদ্র  নারী পুরুষের দারিদ্র্য  নিরসনে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের  আওতাধীন  বিভিন্ন  প্রকল্পের নানামুখী  কর্মসূচী থাকলেও  মূলতঃ সরকারের রাজস্ব বাজেটের একক অর্থায়নে জুন ২০০৩ পর্যন্ত কোন কর্মসূচী ছিলনা । দেশের সকল শ্রেণীর নারী-পুরুষ, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারী ও বর্গাচাষী সহদারিদ্র্য পীড়িত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসের  বিষয়টি  গুরুত্বপূর্ণ  বিবেচনা করে সরকারের রাজস্ব বাজেটের  অর্থায়নে বিআরডিবি জুলাই ২০০৩ থেকে একযোগে ৩টি কর্মসূচী যথা (১) সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক) (২) ক্ষুদ্র কৃষক ও বর্গাচাষী বর্গাচাষী উন্নয়ন কর্মসুচী (এসএফডিপি)এবংদারিদ্র্য বিমোচনে মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থান কর্মসূচী (দাবিমআক) বাস্তবায়নেরকাজ হাতে নেয় । পরবর্তীতে  কর্মসূচীগুলোর  লক্ষ্য  ও উদ্দেশ্য  এক  ও অভিন্ন বিবেচনায় বোর্ডের ৪১তম সভার সিদ্ধান্তের  আলোকে  ৩টি কর্মসূচী ‍‍"সমন্বিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচী (সদাবিক)’’  শিরোনামে একীভুত করা হয় এবং তা জুলাই ২০০৬ থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে । এটি বর্তমানে দেশের ৪৪৯টি উপজেলায় চলমান এবং অচিরেই তা দেশের সকল উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে । একর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে জুন ২০০৮ পর্যন্ত ১৮৪২৫.০০ লক্ষ টাকা ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল হিসাবে পাওয়া গেছে ।সরকার প্রদত্ত তহবিলের সাথে  ৪%  প্রবৃদ্ধি হিসাবে ২২০১.৬৭ লক্ষ টাকা যুক্ত হয়ে ৩০/০৬/২০১০ তারিখে মোট ঋণ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৬২৬.৬৭ লক্ষ টাকা । কর্মসূচীর ঋণ বিতরণ ও আদায় প্রবাহ বৃদ্ধি, ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় শৃংখলা আনয়ন, দূর্নীতি, হস্তমজুদ ও আত্মসাৎ প্রতিরোধ, আন্ত উপজেলায় ঋণতহবিল স্থানান্তর ইত্যাদি বিষয়ে জোরালো ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে ।  আশা  করা  যায়, আগামীতে  কর্মসূচির  কার্যক্রম  আরো গতিশীল হবে এবং অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে ।

কর্মসূচির উদ্দেশ্যঃ

(১) আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে (পুরুষ ও মহিলা) অনানুষ্ঠানিক দলে সংগঠিত করা ।

(২)  প্রশিক্ষণ প্রদান ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমার মাধ্যমে পূঁজি গঠনে সহায়তা দান ।

(৩)  আয় বর্ধক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য জামানত বিহীন ঋণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করন ।

(৪)  পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষন ও অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়ন ।

(৫)  পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন ।

(৬)  সচেতনতা বৃদ্ধি ও মহিলাদের ক্ষমতায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা ।

(৭)  সমাপ্ত প্রকল্পগুলো সদাবিকের সাথে একীভুত করে বিআরডিবি কর্তৃক প্রদেয় সেবার ধারাবাহিকতা অব্যাহত

      রাখা।

বাস্তবায়নের অগ্রগতিঃ

ক্রঃনং

কর্মকান্ডের বিবরণ

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে অগ্রগতি

ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি

দল গঠন(সংখ্যা)

                        ০১

           ৭৯০

সদস্য ভুক্তি(সংখ্যা)

                        ০৪

         ১৮৮৮১

সঞ্চয় জমা

                     ১.২২

        ২২০.৭০

ঋণ বিতরণ

                    ৪৮.৬৫

       ৫১৯৫.৩০

ঋণ আদায়

                    ৪৯.৯৭

       ৪২৩১.৮২

আদায়ের হার

 

           ৮৮%

 

৩.মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগ(মউ):

নারী সমাজকে উৎপাদন ও উন্নয়নের মূল স্রোত ধারায় যুক্ত করা ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয় । এই অপরিহার্য শর্ত পুরণের লক্ষ্যে বিআরডিবি ১৯৭৫ সাল হতে গ্রামীণ মহিলাদের উন্নয়নের জন্য ক্যানাডিয়ান সিডা ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ’’গ্রামীণ মহিলা সমবায়ের মাধ্যমে জনসংখ্যা পরিকল্পনা জোরদারকরণ’’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে । ১৯৭৫ হতে ১৯৯৫ পর্যন্ত ৪টি পর্যায়ে সফলতার সাথে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয় । প্রকল্পটির কার্যক্রম গ্রামের মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সহ নারীর ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে । প্রকল্পের সার্বিক সাফল্য বিবেচনা করে ০১/০১/৯৭ হতে রাজস্ব বাজেটের থোক বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয় এবং বিগত ২২/০৫/২০০৪ তারিখ হতে প্রকল্পের কার্যক্রম সহ বিআরডিবি’র আওতায় ’’মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগ’’নামে রাজস্ব বাজেটভুক্ত করা হয়।

জনবলঃ

বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বাজেটের ৫৯০৩ খাত হতে বিআরডিবি’র রাজস্ব বাজেটভুক্ত জনবলের সাথে মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের ৭১০ জনবলের বেতন ভাতা বরাদ্দ প্রদান করা হয় । সমাপ্ত প্রকল্পের ১০০ উপজেলার উক্ত জনবল রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । সমাপ্ত প্রকল্পের ৮৭ জনবল রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের জন্য সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে । মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের কার্যক্রম ৭১০ জনবল দ্বারা বর্তমানে ১৩০ উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে । বর্তমানে মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রশাসনবিভাগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা অর্থ ও হিসাব বিভাগ, সাংগঠনিক ও ঋণ কার্যক্রম সরেজমিন বিভাগের আওতায় সম্পাদিত হচ্ছে ।

মহিলা উন্নয়ন অনুবিভাগের(মউ) উদ্দেশ্যঃ

- গ্রামীণ মহিলাদের দারিদ্র দূরীকরণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ।

- সমবায় সমিতি গঠনমূলক সদস্যদের নিজস্ব পুঁজি গঠনে সহায়তা করা ।

- মহিলাদের আয় বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনের  জন্য ঋণ প্রদান ও তদারকি ।

- ইউসিসিএ পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমবায়ীদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ,নারীর ক্ষমতায়ন,স্বাস্থ্য ও পুষ্টি,কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম

- নার্সারী ও পরিবেশ উন্নয়ন সহ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহনে উদ্বুদ্ধকরণ ।

- বিভিন্ন সংক্রমন জনিত রোগ (এসটিআই) ও তার প্রতিকার, এইচআইভি/এইডস, ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব

   ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা ।

মউ এর সাংগঠনিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিম্নে দেয়া হলোঃ

ক্রঃনং

কার্যক্রমের বিব

২০১৬-১৭ বছরের অগ্রগতি

ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি

       ২

         ৩

       ৪

সমিতি গঠন(সংখ্যা)

         -                                     

    ১৫৯

সদস্য ভর্তি (সংখ্যা)                                          

     ৩৯১

   ৯৩৪০

শেয়ার জমা(লক্ষ টাকায়)                                     

     ০.৫৬

   ৩১.৮১

সঞ্চয় জমা(লক্ষ টাকায়)                                    

    ০.৩১

   ৭৩.৭৫

ঋণ বিতরণ (লক্ষ টাকায়)                                 

   ১২.৪০

 ২৩৭৮.৮৯

ঋণ আদায় (লক্ষ টাকায়)                               

   ২৩.১৭

 ২১৬৬.৮৩

আদায়ের হার %

          -

       ৯৯%

 

৪. একটি বাড়ী একটি খামার- প্রকল্প :

 পটভূমিঃ

            মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘‘দিন বদলের সনদ’’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারভূক্ত নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন অন্যতম। নির্বাচনী ইশতেহার এবং রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী ২০১২ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনাসহ ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’’ গড়ার বিষয়ে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ । এ অঙ্গীকারের আলোকে বর্তমান সরকার স্থানীয় সম্পদ, সময় ও মানব শক্তি/সত্ত্বাকে সর্বোত্তম ব্যবহার তথা জীবিকায়নের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর । সে লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দেশের প্রতিটি গ্রামে ৬০ থেকে ১০০ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন (Village Organization) কে একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । এজন্য প্রকল্পের আওতাধীন সকল সুফলভোগীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ‘‘উঠান বৈঠক’’ কে প্রকল্প বাস্তবায়ন তথা তাদের জীবন ব্যবস্থার নির্বাহের নিমিত্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।

           বাংলাদেশ হাজারো গ্রামের সমষ্টি । এসব গ্রামের জীব বৈচিত্র এবং ইকোসিস্টেম অত্যান্ত সমৃদ্ধ এবং উৎপাদন সহায়ক । উর্বর ভূমি এবং প্রাণ চাঞ্চাল্যে ভরপুর এসব গ্রামে অনেক দরিদ্র মানুষসহ গ্রামীণ পরিশ্রমী মানুষের বসবাস। পরিশ্রমী এসব মানুষের মাধ্যমে উর্বর বাংলাদেশের সকল গ্রামের সকল বাড়িতে খামার সৃষ্টি করে উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি সম্ভব । শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য কারণে নগরায়ণ বৃদ্ধি পাচ্ছে । নগরায়নের ফলে Absentee land ownerদের সংখ্যা বাড়ছে । তাদের ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ উৎপাদন এবং সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য এবং প্রতি বাড়িকে খামারে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন গ্রাম সংগঠন, প্রয়োজন গ্রামের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সম্পদ তথা পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ । সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তা ক্রমান্বয়ে টেকসই করার ব্যবস্থা গ্রহণ। উৎপাদনের বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিপণন ব্যবস্থা, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও মজুদকরণ সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা মাঠ পর্যায়ে সৃষ্টি ও তা টেকসই করার প্রয়াসেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ।

প্রকল্প সারসংক্ষপঃ

প্রকল্পের নাম                              : একটি বাড়ি একটি খামার

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/ বিভাগ             :  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা                    :  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ

সহযোগী সংস্থা                            :

                                                    > জেলা প্রশাসক (প্রধান সমন্বয়কারী)

> বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ( লিড এজেন্সি)

> সমবায় অধিদপ্তর

> বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, কুমিল্লা

> উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া

> পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন

> ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন                               

> জাতি গঠন বিভাগসমূহ

 

কর্মসূচির মেয়াদঃ জুলাই’ ২০০৯ হতে জুন’ ২০১৩ পর্যন্ত সরকারী অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। জুলাই’২০১৩ থেকে জুন’২০১৬ পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হয়। ০২/০৭/২০১৪ তারিখে জাতীয় সংসদে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামে বিল পাস হয়।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ২২/০৬/২০১৬ খ্রিঃ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ১০০ টি শাখা উদ্বোধন করেন। এবং পর্যায়ক্রমে সকল শাখা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে রূপান্তর হয়েছে।

 

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ 

লক্ষ্য :

           ‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক কার্যক্রমের একক হিসেব গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় দারিদ্র ২০%-এ নামিয়ে আনা।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সমূহঃ

>   প্রথম পর্যায়ে প্রতি উপজেলার ৩৬টি গ্রাম হিসেবে মোট ১,৭৩৮৮ গ্রামের দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল (৮৫০০০) গ্রামের ৫১ লক্ষ দরিদ্র/অতিদরিদ্র (প্রতি গ্রামে ৬০টি ) পরিবারসহ সমিতিভূক্ত সকল পরিবারকে গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

>  ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন সকল গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ‘‘খামার বাড়ি’’ হিসেবে গড়ে তোলা।

>  ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন করে (কৃষি, পশুপালন, হাঁস-মুরগী পালন,মৎস্য চাষ, বৃক্ষ নার্সারী ও হটিকালচার ট্রেডের প্রতি বিষয়ে একজন) মোট ৮৬,৯৪০ জন সদস্যকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে খামার স্বেচ্ছাসেবী গঠন করা এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রামকর্মী সৃজন করা।

>  ২০১২ সালের জুনের মধ্যে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে নিজে/ সদস্যদের নিয়ে প্রতি গ্রামে ৫টি করে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষত কর্মীদের বাড়ীতে মোট ৮৬,৯৪০ টি প্রদর্শণী খামার গড়ে তোলা।

>   বর্ণিত খামার স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে সরাসরি উপকারভোগী কমপক্ষ ৯,৫৬,৩৪০ পরিবারসহ গ্রামের অন্যান্য পরিবারে অনুরুপ খামার বা জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

>  ২০১৩ সালের মধ্যে অনিবাসী ভূমি মালিকদের ভূমিসহ গ্রামীণ সকল সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করা।

>   ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্প থেকে গ্রাম সংগঠনের অতিদরিদ্র/দরিদ্র সদস্যদের মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমান কন্ট্রিবিউটরি মাইক্রো সেভিংস প্রদানের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ব্যক্তি সঞ্চয় বছরে ন্যূনতম ৫,০০০/- টাকায় উন্নীত করা যা ২ বছরে ১০ হাজার এবং ৫ বছরে ৪০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

>   ব্যক্তি তহবিলে কন্ট্রিবিউটরী অর্থের অতিরিক্ত প্রতিটি সংগঠনকে বছরে তাদের নিজস্ব সঞ্চয়ের সমপরিমান প্রকল্প থেকে মূলধন সহায়তার মাধ্যমে দু’ বছরে মোট ৯,০০,০০০/- টাকা গ্রাম সংগঠন তহবিল গড়ে তোলা।

>   প্রধান কৃষি ফসলের পাশাপাশি আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন, জিরা, মসলা, বিভিন্ন ফল এবং অন্যান্য অপ্রধান কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রতিটি বাড়ী সংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহার করা।

>    মাছ চাষের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণের মাধ্যমে অন্যান্য aquatic culture কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

>   উপজেলা পর্যায়ে বর্তমান সুবিধা (বিআরডিবি/ বিএডিসি’র গোডাউন ) ব্যবহার করে একটি করে সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ (হিমাগারসহ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

>   কৃষিজাত পণ্যের সমবায় ভিত্তিতে মার্কেটিং ও প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়ে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের কার্যক্রম গ্রহণ করা।

> অগ্রগতির প্রতিবেদন :    

   দিনাজপুর জেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প কার্যক্রমের অগ্রগতির বিবরণঃ

১)  গঠিত সমিতির সংখ্যা = ৯১২ টি।

২)  উপকারভোগীদের সংখ্যা = ৫৩৭০৫ জন।

৩)  ব্যক্তি সঞ্চয় জমা = ২৮৮৮.২০ লক্ষ টাকা।

৪)  উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণকৃত ঋণের পরিমান = ১০৭২০.৭৬ লক্ষ টাকা।

৫)  ঋণ আদায় = ৫২১৬.৫১ লক্ষ টাকা।

৬)  ঋণ আদায়ের হার = ৪৯%।

৭)  সরকারকর্তৃক উপকারভোগীদের মাঝে সম্পদ বিতরণের বিবরণ:

 

সম্পদের বিবরণসংখ্যাপরিমান (লক্ষ টাকায়)
 ১) গাভী১৩০০২৬০.০০
২) ঢেউটিন৫৭২৫৭.২০

৩) হাঁস-মুরগী

৩৯০১৯.৫০
৪) সব্জি বীজ১৫৬০১৫.৬০
৫) গাছের চারা১১৭০১১.৭০
মোট৪৯৯২৩৬৪.০০

                       

৫. অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২ (পিআরডিপি-২):

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ আর্থিক ও কারিগরী সহায়তায় এপ্রিল ২০০০ হতে মে ২০০৪ মেয়াদে বাস্তবায়িত পিআরডিপি-১ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে একই সংস্থার অর্থায়নে ৫ বছর মেয়াদী (জুন ২০০৫ হতে মে ২০১০) পিআরডিপি-২ প্রকল্পটি গ্রহণ হয়।স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, জনগনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বিদ্যমান সরকারী/ বেসরকারী সরবরাহ ও সেবার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কমিউনিটিভূক্ত সকল শ্রেণী/পেশার জনগণের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য । প্রকল্পটি কালিহাতি (টাংগাইল), তিতাস (কুমিল্লা) এবং মেহেরপুর সদর (মেহেরপুর) উপজেলার ২০ টি ইউনিয়ন  বাস্তবায়িত হয় । পিআরডিবি-২ প্রকল্পের সাফল্যের ভিত্তিতে পিআরডিবি-২(২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আরটিপিপি পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে, ফলে সম্প্রসারিত প্রকল্পটি মে/২০০৫ থেকে জুন ২০১৪ মেয়াদে দেশের ৬৪টি জেলায় ৮৫টি উপজেলায় ২০০টি ইউনিয়নে বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে । জেডিসিএফ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে মোট ১৪৩ জন জনবলের সংস্থানরয়েছে । প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৮.২১ কোটি টাকা । ৩০ জুন, ২০১০পর্যন্ত মোট অবমুক্তি ১৯.৩৮ কোট টাকা এবং ব্যয় ১৯.১৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ

১)  যোগাযোগ সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতিকরণ ।

২)  ইউনিয়ন পরিষদকে ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস ডেলিভারী স্টেশনে রূপান্তর করা ।

৩)  স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু আহরণ ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতিকরণ এবং সামাজিক পূঁজি (Social Capital) গঠনে সহায়তা প্রদান ।

৪)   সরকারী- বেসরকারী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান/ সংস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা গ্রহণকারী পক্ষ সমূহের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তা জোরদারকরণ।

  • ৫) নিজস্ব উদ্যোগে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন।
  • প্রধান প্রধান কর্মকান্ডঃ

১)  ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটি (ইউসিসি) মাধ্যমে সকল পর্যায়ে সংযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি।

২)  গ্রাম কমিটি (জিসি) গঠন এবং গ্রাম কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের বিদ্যমান সমস্যা সমূহ ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থাপন

৩) মহিলা উন্নয়ন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে মহিলা উপকমিটি গঠন।

         ৪)  সরকারী বেসরকারী সেবা সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।

         ৫) ইউপি’র জন্য সরকার প্রদত্ত থোক বরাদ্দ এবং স্থানীয়জনসাধারণের নিজস্ব আর্থিস্ব সহায়তায় গ্রামীণ  ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবকাঠামো নির্মাণ।

         ৬) কৃষকদের কাছে তথ্য পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউআইসি স্থাপন।

দিনাজপুর জেলারPRDP-২ কার্যক্রমের অগ্রগতির বিবরণঃ সদর উপজেলার ৭ নং উথরাইল ইউপি ও ৫ নং শশরা ইউপি

১)       গ্রাম কমিটি - ১৯টি।

২)       ইউসিসিএম (ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটি মিটিং) - ৪৩টি।

৩)      ইউসিসি স্কিম - ৬টি।

৪)       জিসি স্কিম (গ্রাম কমিটি স্কিম) - ১৭টি।

৫)      ফিল্ড প্রপোজাল ট্রেনিং - ১৩১টি (৩৬৮০ জন)।

৬)      খানা জরিপ - ৩৩৩৩টি (আরো প্রক্রিয়াধীন।